বিশেষ প্রতিবেদক

একটি কুচক্রী মহল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে ভিডিও টি ভাইরাল করে। উক্ত ভিডিওর বিরুদ্ধে নাজিরপুরে প্রতিবাদ সভায় জনতার ঢল।

পিরোজপুর – ১ ( নাজিরপুর ও স্বরূপকাঠি) আসনের এমপি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের রহস্য উন্মোচন হয়েছে। এ ঘটনায় নাজিরপুর, নেছারাবাদসহ পৃথক ৩টি মামলা দায়ের হয়েছে।

জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ও তার পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধীসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে কয়েকজন নারী-পুরুষকে দিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় মন্ত্রীর ছোটভাই একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও প্রকাশক নুরে আলম সিদ্দিকী শাহিন তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে (বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বৈত নাগরিক) পিরোজপুরের নাজিরপুরের শ্রীরামাকাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণ জয়পুর গ্রামের সচীন মজুমদারের ছেলে সুব্রত মজুমদার টুপাই (৩৫), একই উপজেলার উত্তর জয়পুর গ্রামের রানী মণ্ডল (৪০), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছিরনগর উপজেলার দাইতমণ্ডল গ্রামের সোবাহান ভুঁইয়ার মেয়ে সীমা আক্তার (৩৯), কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরীর আব্দুস সত্তারের মেয়ে সাথী আক্তারকে (৪১) গ্রেফতার করেছে।

জানা গেছে, ওই ভিডিওতে সীমা আক্তার ও সাথী আক্তারের কপালে সিঁদুর ও হাতে শাখা পরিয়ে হিন্দু পরিচয়ে মন্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কটূক্তি করা হয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা একুশের কন্ঠকে জানান, গ্রেফতারকৃতদের ২ দফা জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন ভিডিও তৈরিতে একটি প্রভাবশালী মহলের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে মন্ত্রী, তার পরিবার ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এমন ঘটনার অভিযোগ মিলছে।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শেখ আব্দুল লতিফ বলেন, মন্ত্রীর পিতা উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের তারাবুনিয়া গ্রামের মো. আব্দুল খালেক। ৩ ছেলে নিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে আমরা এই এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা তার বাড়িতে বসে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালাতাম। অথচ তাকে (মন্ত্রীর বাবা) স্বাধীনতাবিরোধী বলে অপ্রচার করা হয়েছে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে।

ভিডিও তৈরি করা নারী সীমা আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন- তিনি হিন্দু নন, মুসলিম। তাকে টাকার বিনিময়ে হিন্দু সাজিয়ে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। তাদের জবানবন্দিতে সুব্রত মজুমদার টুপাই নামের মূল অর্গানাইজার ধরা পড়ে। তিনি এসব তথ্য দিয়েছেন।