পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলায় সরকারি খাস জমি দখল করে সেখানে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করেছেন মোশারেফ হোসেন খান নামে এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তার দখল করা সরকারি ওই খাস জমিতে তিনি প্রায় শতাধিক পাকা, আধাপাকা দোকান ঘরসহ বাসাবাড়ি করে বছরের পর বছর ভাড়া দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, নাজিরপুর উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখভাগ থেকে নাজিরপুর কলেজ পর্যন্ত পাকা সড়ক, ওয়াক ওয়ে, ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু এই সড়কটির শুরুর স্থান নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখভাগ থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত প্রায় ৩ শ’ মিটার লম্বা এবং ১শ’ মিটার চওড়া সরকারি খাস জমিতে ওই আ.লীগ নেতার শতাধিক অবৈধ স্থাপনা থাকায় চলমান এ উন্নয়ন প্রকল্পটি থমকে আছে।h

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সরকারি এ সম্পত্তির উপর পাকা ও আধাপাকা প্রায় শতাধিক দোকান রয়েছে। দোকান গুলো ওই আ.লীগ নেতার কাছে ভাড়া নিয়ে বছরের পর বছর ব্যবসা করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। একাধিক ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই আ.লীগ নেতার নিকট দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করে আসছেন বলে স্বীকার করেন। অনেকে এটা চেয়ারম্যান মার্কেট হিসেবে পরিচিত বলেও জানান।

স্থানীরা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা প্রশাসন ওই আ.লীগ নেতাকে তার অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বারবার তাগাদা দিলেও এখন পর্যন্ত তিনি অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার কোনো উদ্যোগ নেননি। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। একাধিক ব্যক্তি নানা মন্তব্য করে ফেসবুকে পোস্ট করছে। অনেকে লিখছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পের কাজে এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি প্রকারান্তরে সরকারের বিরোধিতার শামিল। নাজিরপুর উপজেলার সাধারণ জনগণের কাঙ্খিত এই প্রকল্প নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের জন্য নাজিরপুর উপজেলা ও পিরোজপুর জেলা প্রশাসন এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

পারভেজ খান নামে একজন তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, নাজিরপুর উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা মাফিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখভাগ থেকে নাজিরপুর কলেজ পর্যন্ত পাকা সড়ক, ওয়াক ওয়ে, ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান। নাজিরপুরের সাধারণ জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরন হবে এই কাজ সমাপ্ত হলে। কিন্ত অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই সড়কটির শুরুর স্থান, অর্থাৎ নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখভাগ থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত প্রায় ৩ শত মিটার লম্বা এবং ১ শত মিটার চওড়া সরকারি খাস জমি দখল করে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি পাকা ভবন ও আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছেন। ওই জনপ্রতিনিধির অবৈধ স্থাপনা থাকার কারণে সড়কটির নির্মাণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সড়ক নির্মাণ কাজ চলমান রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসন ওই জনপ্রতিনিধিকে তার অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বারবার তাগাদা দিলেও এখন পর্যন্ত সেসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অনেকে লিখছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের কাজে এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি প্রকারান্তরে সরকারের বিরোধিতার শামিল। নাজিরপুর উপজেলার সাধারণ জনগণের কাক্সিক্ষত এই প্রকল্প নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের জন্য নাজিরপুর উপজেলা ও পিরোজপুর জেলা প্রশাসন এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আরেকজন লিখেছেন উপজেলায় প্রবেশদ্বারের মুখে অবৈধ স্থাপনার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশের গাড়ি ঢুকতে পারে না।h

সরকারি ওই খাস সম্পত্তি পুরোটাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন খান দখল করে দোকানসহ বাসাবাড়ি করে বছরের পর বছর ভাড়া দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এম খোকন কাজী বলেন, সরকারি খাস জমি যার দখলেই থাকুক, উন্নয়নের স্বার্থে সে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

নাজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন মিয়া বলেন, নাজিরপুর উপজেলা সদরের দৃশ্যমান সুন্দর্যবর্ধক প্রকল্প হিসেবে নাজিরপুর উপজেলা হেডকোয়াটার থেকে হুমায়ুন হাজরার বাড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে। তবে সড়কটি শুরু স্থান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে নদীর তীর পর্যন্ত প্রায় তিনশ’মিটার লম্বা ও ১শ’ মিটার চওড়া সরকারি খাস জমিটি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দখল করে অবৈধ স্থাপনা করে রেখেছে। সেগুলো অপসারণ না করায় ডিজাইন অনুযায়ি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রকল্পের অন্য অংশের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, যারা ওই জায়গা দখল করে আছে। তাদের ইতোমধ্যে নোটিশ করা হয়েছে এবং উচ্ছেদ মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন দখলকারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান সেই প্রভাবে তিনি নোটিশ পেয়ে তার অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছেন না। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি যেই অবৈধভাবে দখল করে রাখুক, আমরা যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় তা উচ্ছেদের ব্যবস্থা করবো এবং তা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, ওই জায়গাটি সরকারি খাস জমি। কে দখল করে মার্কেট করেছেন বা ভাড়া দিয়েছেন সেটা বড় বিষয় নয়। যারা বর্তমানে দখলে রয়েছেন তারাই অবৈধ দখলদার। ইতোমধ্যে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা জন্য উচ্ছেদ মামলা করে অনুমোদনের জন্য ডিসি অফিসে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদনের পর উচ্ছেদের জন্য ডিসি অফিস থেকেই ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে।

নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেন খান বলেন, ওই সম্পত্তিটা আমার ক্রয় করা সম্পত্তি ছিলো। একপর্যায়ে সরকার অধিগ্রহণ করে নিলে আমি সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করি। কিন্তু আমি মামলায় হেরে যাই। পরে বাধ্য হয়ে সরকারের কাছে একসনা লিজ নিয়ে ভোগ দখলে আছি। তবে সরকার নতুন লিজ না দেয়ায় নাবায়ন করা সম্ভব হয়নি। উন্নয়নের জন্য কর্তৃপক্ষ আমাকে যতটুকু ছেড়ে দিতে বলবে আমি ছেড়ে দিবো। সূত্র আজকের দর্পণ